হুমায়ুন কবীর

যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।

হুমায়ুন কবীরের (১৯০৬-১৯৬৯)জন্ম অধুনা বাংলা দেশের ফরীদপুর জেলার কোমারপুর গ্রামে হয়েছিল | তাঁর পুরো নাম 
হুমায়ুন জাহিরুদ্দীন আমীর-ই-কবীর | তাঁর পিতা কবিরুদ্দীন আহমেদ এবং ঠাকুরদা ইংরেজ আমলে "খান
বাহাদুর" উপাধি পেয়েছিলেন | ১৯২২ এ তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রখম হন | প্রেসিডেনসি কলেজ থেকে দু বছর
পর হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষায় তৃতীয় হন | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর
পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে রেকর্ড করেন | কলেজ জীবন থেকেই তিনি ছাত্র নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ
করেন |
১৯৩২ সালে তিনি অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন এর অধ্যাপক এর কাজে যোগ দেন | এক বছর পর তিনি কলকাতা
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হয়ে যোগ দেন | এখানে থেকেই তাঁর প্রত্যখ্য রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় | ফজলুল হক্
এর কৃষক প্রজা পার্টির হয়ে ১৯৩৭ - ১৯৪৭ সময় কাল তিনি অবিভক্ত বাংলার বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করেন |
এক সময় তাঁকে তিন তিনটি ট্রেড ইউনিয়ন এর সভাপতির দায়ীত্ব সামলাতে হয়েছে | ১৯৪৬ সালে তিনি কংগ্রেস
নেতা মৌলানা আজাদের ব্যক্তিগত সচিব হন | দেশ ভাগ হবার পরে তিনি, মৌলানা আজাদের মতন, ভারতেই
থেকে যান | মৌলানা আজাদ নাকি তাঁর বিখ্যাত India Wins Freedom বইটি কবিকে ডিকটেট করে রচনা
করেছিলেন উর্দূ ভাষায় | মৌলানা যখন ভারতের প্রথম শিক্ষা মন্ত্রী হন, হুমায়ুন কবীর তখন অন্যান্য পদের সাথে,
ইউনিভারসিটি গ্রান্টস কমিশনের সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন | ১৯৫৮ সালে, মৌলানা আজাদের মৃত্যুর পর
তিনিই ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী হন | ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৬৯ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত, তিনি পশ্চিমবঙ্গের
বশিরহাট কেন্দ্র থেকে সাংসদ ছিলেন |
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বারা প্রভাবিত একজন রোমান্টিক কবি এবং সাহিত্যিক হিসেবেও যথেষ্ট অবদান রেখে
গেছেন | তাঁর কাব্যগ্রন্থ স্বপ্নসাধ (১৯২৭), সাথী (১৯৩০), অষ্টাদশী (১৯৩৮) প্রভৃতি | "নদী ও নারী" উপন্যাস(১৯৪৫),
যা ১৯৫৬ সালে ঢাকা থেকে ছায়াছবিতে রূপায়িত করা হয়, ইম্যানুয়েল কান্ট(১৯৩৯), শরত্ সাহিত্যের মূল তত্ত্ব
(১৯৪২), বাংলার কাব্য (১৯৪৫), মার্ক্সবাদ (১৯৫১), নয়া ভারতের শিক্ষা (১৯৫৫), শিক্ষক ও শিক্ষার্থী(১৯৫৭), মির্জা
আবু তালিব খান (১৯৬১), দিল্লী-ওয়াশিংটন-মস্কো(১৯৬৪), মোসলেম রাজনীতি (১৯৪৩) প্রভৃতি প্রবন্ধ উল্লেখনীয় |



এই সাইড সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে অথবা আপনার মতামত দিতে email করুন
kobita10@yahoo.com
ধন্যবাদ