টোকন ঠাকুর

অসুখ ও নার্সের কবিতা - টোকন ঠাকুর


প্রেম একটা অসুখ, আমর অসুখ সেরে গেছে

মন ভালো হয়ে গেছে, স্বাস্থ্যও আগের চেয়ে ফুরফুরে

খাদ্যে রুচি ফিরে আসছে, ভ্রমণের নেশা জাগছে

নিজেকে নিজের এত ভালো লাগছে যে, নিজেকে নিজের

চুমু খেতে ইচ্ছে করছে, আদর করতে ইচ্ছে করছে;



মনে হচ্ছে, নিজের ওপরে সটান... নিজেই নিজের

বুকের ওপরে শুয়ে পড়ি, নিজেই নিজের ভেতরে প্রবেশ করি_

নিজেই নিজের ভেতরে গিয়ে দেখে আসি সেই বৃন্দাবালুচর

যেখানে রসের তরমুজ ফুটে থাকে

যেখানে সময় স্বপ্ন আঁকায় সময়ের ফাঁকে ফাঁকে



... আরও কত গল্প আছে, ছোট ছোট কথা আছে, তাকানো আছে

আঁকাবাঁকা অভিমান আছে, ভালো লাগার ভয়ানক ভঙ্গি আছে

অসুখ নেই বলেই কিন্তু এসব আমি ফিল করছি, নিজের সঙ্গে

ঘাসফড়িঙের মিল পাচ্ছি... আমিও একটা পুংটা পুংটা ফড়িং

মনে হচ্ছে, যে ছেলেটা আজ স্কুলে যায়নি, খুব দুরন্ত

পুরোটা দুপুর আমার পিছে ছুটে ছুটে আমাকে সে যেন ধরে নিয়ে যায়

কারণ আমি ফড়িঙের ভাই ফড়িং আমার অসুখ সেরে গেছে

দীর্ঘদিনের অসুখ



আর তুমি নার্স, নারী, তোমাকে আমি মনে রাখবো

প্রেম একটা অসুখ, তোমার সেবা-শুশ্রষায় অসুখ ছেড়ে যায়!

বরষা সংক্রান্ত-টোকন ঠাকুর



গল্পচ্ছলে, বলব, লেখ্যভাষা বোঝো তো?

বুঝবা কেমনে? চোখ রাখো অন্তরের অন্তস্তলে



পদ্য নয়, ফর্দ লিখি, রিমোট এরিয়ায় থাকি

অব দ্য রেকর্ড, বংশানুক্রমিক আমি পাখি



গুরুবাক্যে বলেছেন লালন ফকির, আমাকে নাও চিনে

শোনো, 'চাতক বাঁচে কেমনে, মেঘের বরিষণ বিনে...?'



খ.

এই বর্ষাপুরে আমি ভিজতে এসেছি, তারপর ফের চলে যাবো

এই বর্ষাপুরেই আঞ্চলিক বৃষ্টি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত

এই বর্ষাপুরেরই মেঘমল্লার রোডে আমার পৈত্রিক বাড়ি



বর্ষাপুর খুব ভেজা ভেজা গ্রাম

বর্ষাপুর থেকে শাহবাগ, কবিতার রাজধানী ষোল শো মাইল দূর

ঝিরিঝিরি পাড়াগুলো ফ্রি ফ্রি শোনায় সুর

পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর...



এই বর্ষাপুরে আমি খুঁজতে এসেছি আষাঢ়-শ্রাবণ

উল্লেখ্য, মেঘমল্লার রোডে আমার পৈত্রিক বাড়ি

ফুল্লেখ্য, রিমঝিম ক্লাবের সব মেম্বারই ফিমেল

কিশোরী, বালিকা, যুবতী কিংবা প্রজাপতি



তাদেরই কেউ একটা বৃষ্টিভেজা কবিতা আমাকে দিলেই

আমি চলে যাব, শাহবাগে



গ.

খুবই খুবই খুবই

ও মেঘ, বৃষ্টি এলেই

এবার যেন তুলো ভেজা ভিজে ডুবি

গলির মোড়ে খাম্বা,খাম্বায় বাড়িভাড়া সাবলেট,পড়াইতে চাই,বটিকা লিপিডিশ, ঘটক ও কাজি অফিস ইত্যাদি-টোকন ঠাকুর



এক অজ্ঞাতনামা চাইনিজ কবির কবিতা আমার ভালো লেগে যায়
মনে ধরে যায়
"চা দে, দুধচিনি বাড়ায়ে দিস..." বলেই টি-স্টলে দাঁড়ানো কবি যেদিকে তাকায়

সেদিকেই প্রেমিকার বাড়ি

বাড়ির ছাদে নাইলনের টান টান দড়ি

কবি সেই টান টান দড়ির দিকেই নেত্র মেলে থাকে...

কবির বিবৃতি: দড়িতে চুলের ফিতা শুকোনো দেখে

আমার মনে ভার্মিলিয়ন ভাব জমে খুব, খুব

দড়িতে যখন দেখি, উনার ওড়না-কামিজ রোদে পুড়ে যাচ্ছে

সেই পোড়নে তখন আমার ভালোবাসা ফাল দে ওঠে, ডিগবাজি খায়

আর যখন দড়িতে দোলে তোমার ভেজা পায়জামা/ সায়া

তক্ষুণি মনে হয়, পায়জামা/ সায়া শুকিয়ে ওঠার আগেই

তোমাকে আমি বিয়ে করে ফেলি

গুচ্ছকবিতা ...টোকন ঠাকুর

লেবুগাছের পাতা
বেতনের অর্ধেক যায় চুমুর পেছনে
 আর অর্ধেক চাঁদে
এই বাক্য ব্যাখ্যা করতে বাঙালি ছেলের বাধে
কী আমার চাকরি আমি কত বেতন পাই?
বাংলাদেশ সরকারের ঘ্রাণ ও শ্রমমন্ত্রী আমি
যদি লেবু কিংবা লেবুগাছের স্ত্রী-পাতা থাকে বিছানায়


মেঘের পিছু
আমার হাঁটুর নিচে স্তন, নরম মাটি
বাঁশি বাজছে, বাঁশি বাজে , বাঁশি বাজে... বাঁশি
ফাজিল! অনার্সে ওঠা এক মেঘের দিকে হাঁটি
দুপুরে, মেঘ আমাকে মাঠের মধ্যে
বসিয়ে রেখে হঠাত্ ‘আসি’
বলেই অনেক ওপরে উঠে গেল
মেঘ সম্ভবত এমএ, এমফিল গবেষণার দিকে গেল
এদিকে, আমার দুহাতে নরম মাটি, স্তন
কিন্তু ক্ষতিটা হচ্ছে, মেঘের পিছু পিছু গেছে
মেঘ মুগ্ধমন

আখ্যা, ব্যাখ্যা
গুরুতর আখ্যা দিও লঘু পাউরুটিদের
মাধুকরী ব্যাখ্যা দিও টিকচিহ্নহীন বিকেলের
পাউরুটিদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল সকাল আর দুপুরট
 মিলে একাকার ভাঙা বেঞ্চে, চায়ের দোকানে
সম্ভবত মেঘ-বায়ু-তরুলতা ও তাদের বিষণ্ন-বোন নীরবতা
তারা শুধু বাঙলাভাষা জানে—
কিন্তু কথা বলে আকারে-ইংগিতে, হয়তো একটু বঙ্কিম সংকেতে
ফুঁঃ মন্তর ফুঁঃ! বড়শি, এবার একটা মাছ যেন আনিস গেঁথে
আমি বসে আছি ডাঙায়।
কবিতা লেখার প্রকৌশলে রঙিন কিছু শব্দে ধূসর
 পাণ্ডুলিপি জীবন দাশকে পাশ কাটিয়ে ফ্লুরোসেন্টে রাঙাই
তাই গুরুতর আখ্যা দিও না ফ্লুরোসেন্ট কালারের
তাই মাধুকরী ব্যাখ্যা দিও না মফস্বল থেকে আগত
রাগমিশ্র, বোকা বাক্যের

ছন্দ-সংকট
ছন্দ জানাও এক মারাত্মক সংকট
শীত-বর্ষাও বৃত্তাবদ্ধ ছন্দে ছুটে আসে
তখন, ছন্দ না জানা সেই সময়ের জন্য
আফসোস হয়, দুঃখ হয়, কারণ
এই ছন্দময় পয়ারে রচিত প্রেম
আমার একদম ভালোলাগে না
এই প্রেমে প্যাকেট পয়সা দিয়ে কেনা
যেন শীত আসে বলেই জাম্পার পরি
বর্ষা নামে বলেই ছাতা ব্যবহার করি

বসন্তরজনীতে বসিয়া রচিত কবিতা-টোকন ঠাকুর



নিষ্প্রয়োজনে

আমি

ছোট নাম লেখাতে গেছি

কবির খাতায়



নিজ প্রয়োজনে

আমি

নক্ষত্রের দেনা

নিয়েছি মাথায়



বিষ-প্রয়োজনে

আমি

সাপ ও বেদেনী

চেয়েছি দুটোয়



দুহাতে দুধের ছানা, বেপরোয়া মুঠোয় মুঠোয়

সম্পূর্ণ ফুটেও নারী, ক্লাসিক্যালি অস্ফূট…



So, আজ আমাকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হলো–

আমি কি কবি ছিলাম? সাপুড়ে ছিলাম? নাকি ছিলাম যা, তাই?



শিস্ প্রয়োজনে

আমি

হাওয়া ধাক্কা দিচ্ছি

বসন্ত-জঙ্গলে গাছদেব...

বাল্মীকিরা আসে যায় — টোকন ঠাকুর


এখনো সন্ধ্যা আসে!

এখনো ‘সমস্ত দিনের শেষে’ ধুলোমাখা সব প্রতিশ্রুতি এসে জড়ো হয়,

সন্ধ্যায়।

‘সন্ধ্যার নদীর জলে এক ভিড় হাঁস ওই- একা’; বসে থাকে।

বসে থাকে ‘করুণ শাখায়।’



উঁচু রেলব্রিজ থেকে, অন্ধকার··· ছড়িয়ে পড়ে

নিচু জলাভূমি থেকে, অন্ধকার··· জড়িয়ে ধরছে

অদূরে গ্রামের গল্প, সেই গল্প ঝিমধরা বনের দিকে হারিয়ে যাচ্ছে



আমরা সন্ধ্যার ঠোঁটে, আগুন জ্বালিয়ে, টান দিচ্ছি বাঙলা কবিতায়।

বাঙলা কবিতা জড়ো হচ্ছে, বড়ো হচ্ছে সন্ধ্যার তুরীয় তর্কে,

আর গুঁড়ো গুঁড়ো শব্দপুঞ্জ ঘন হচ্ছে, দানা বাঁধছে,

আর জানা হচ্ছে একদিন-

আমরা সন্ধ্যার পক্ষে, স্মারকলিপি দিয়েছি রাত্রিসংঘে!



দুই·

এক সন্ধ্যায়, বিরলে ব্রজের সানাই বেজেছিল!

এক সন্ধ্যায়, পুনর্ভবা নদী থেকে আমরা আর ফিরতে পারিনি!

এক সন্ধ্যায়, বিসর্জনের অশ্রুপাত ঠেকাতে পারিনি!

এক সন্ধ্যায়, একঝাঁক সন্ধ্যা এসে বলেছিলঃ

অন্ধকারে দশদিকই যাওয়া যায়, একা!

অন্ধকারে নিষিদ্ধের কথা যায় লেখা!

এক সন্ধ্যায়, বনে বনে বিন্দু বিন্দু, সেই আমাদের জ্বলে উঠতে শেখা!



এখনো সন্ধ্যার নামে, শাহবাগ ঘুরেফিরে আসে।

শাহবাগ আমাদের তরুণ কবিতা!

শাহবাগ আমাদের ডিঙিজল··· ঢেউ!

শাহবাগ আমাদের বিউটি বোর্ডিং!

শাহবাগ ম্যারিয়েটা, রেকস্‌ রেস্তঁরার আলো!



সন্ধ্যায় শাহবাগ, সেই মেয়েটির মুখ; যাকে আমি খঁুজেও পাব না···

সন্ধ্যায় শাহবাগ, গ্রন্থে গ্রন্থে এখনও গ্রামীণ!

সন্ধ্যায় শাহবাগ, মন্ত্রে মন্ত্রে ভীষণ দীক্ষিত!

সন্ধ্যায় শাহবাগ, ঘুরেফিরে কবি!



কবিও লিখেছে সন্ধ্যা, মৎসগন্ধা নারী

কবিও মেখেছে ধুলো, ধুলো সরকারি

কবিও রেখেছে বাক্য, বাক্যে তরবারি

কবিও দেখেছে দৈন্য, দীর্ণ ভাড়াবাড়ি··



সন্ধ্যায়, শাহবাগে, মুঠো মুঠো অন্ধকার ভীষণ উড়ছে

সন্ধ্যায়, শাহবাগে, করপুটে মহাকাল, ভীষণ দুলছে

সন্ধ্যায়, শাহবাগে, শাহবাগই ভীষণ ফুলছে



তিন·

যারা কবি, যারা সব সন্ধ্যাবেলার কবি; যাদের জন্য সেই

চিরায়ত ঝরাপাতা··· যাদের জন্য সেই ক্লাসিক্যাল অভিমান;

যাদের জন্য সেই অমলের ডাকঘর, চিঠি নিয়ে আসা অথবা

চিঠি নিজেই আসবে বলে, যাদের জন্য আজও

সুধা আসবে সুধা ভাসবে··· অথবা যারা

আট বছর আগেই একদিন, মধ্যরাতে মরে গিয়ে, নিজেরই প্রক্সি

দিয়ে শাহবাগে ফিরে এসেছে, এই সন্ধ্যায়-

জানি, বাল্মীকিরা ফিরে ফিরে আসে।

জানি, বাল্মীকিরা কখনও তো নিজেই ব্যাধ!

জানি, বাল্মীকিরা স্বীকার করে- ‘নিজেকে শিকার।’

জানি, বাল্মীকিরা একদিন চলেও তো যাবে···



আমাদের তৃণবন্ধু,

অন্ধকারে বিন্দু বিন্দু

বাল্মীকিরা মাঝরাতে ফিরে চলে যায়

বাল্মীকিরা ভাড়াবাড়ি- কত ভাড়া দেয়?

বাল্মীকিরা ফিরে আসে, প্রতি সন্ধ্যায়



চার

নব্বই-এর নাব্যভাষা, মিলেনিয়াম দ্যাখে

নব্বই-এর বাল্মীকিরা, শেখে আত্মখুন!

নব্বই-এর নাব্যভাষা, বয়সে তরুণ!

নব্বই-এর ন্যায্যআশা, ঘামে আসবে নুন!

নব্বই-এর নাব্যভাষা, আগুন আগুন!



আমাদের বন্ধুকবি- যেন সেই কবিবন্ধু- আহত হবার মতো

অবিমিশ্র বেদনা রয়েছে যাদের, অবিনাশী স্বপ্ন

খেয়েছে যাদের··· অসম্্‌ভব যাদের চেয়ার ও টেবিল

প্রজ্ঞাপাঠ, এই সন্ধ্যায়, শাহবাগে পৃথিবীর আলো?



বাঙলা কবিতা, গীতিমুখ্য বেদনায় আজও রক্তিম!

বাঙলা কবিতা, স্মৃতিমুখ্য বাসনায় আজও ধূসর!

বাঙলা কবিতা, স্মৃতিভেজা দুঃখদহে আজও শীতাভ!



বাঙলা কবিতার ভিতর দিয়ে, সন্ধ্যার শাহবাগে, আমার বাল্মীকি বন্ধুরা

আজও বসে থাকে। ঝিলের সীমিত জলে যে প্রকার

মাছমন ভেসে ভেসে থাকে, যেপ্রকার সন্ধ্যার মাধুরী খুব

সেজেগুঁজে ঢঙ করে ডাক দেয়, ইশারা মারে, বলেঃ

‘টাকা লাগবে না, আয়

আয় আমরা সন্ধেটাকে খাই

জামাকাপড় খুলে রেখে

আমার বাড়ি আয়···’



‘নাভিতে সবুজ ধান’ বুনে বুনে যদি সেই একই কথা বলি,

‘দাসেরে করিও মা’ দাসেরে রেখো না মনে···

সন্ধ্যাতীরে, বাল্মীকিরা বিভঙ্গ চেতনা এলে

ত্রিভঙ্গ মুরারী রেখে বাল্মীকিও ভেঙে ভেঙে যায়

যেহেতু কবিতাব্রতী- ভাঙাকাচও জোড়া দিতে চায়



পাঁচ

একটি প্রকৃত প্রেম, প্রকৃত মাদক, তাতে কবি অভ্যস্ততা চায়!

‘বালুচর’ শব্দটি যে রকম তৃষ্ণার্ত, অথচ পাশেই জল

‘অভিমান’ শব্দটি যে রকম রোমান্টিক, কিন্তু প্রযুক্ত ব্যথায়

‘ভালোবাসা’ শব্দটি যে রকম ‘ধারণাসম্মত’, কিন্তু ‘বিশ্বাসে’ এগুতে চায়



আমারও তো চাওয়া ছিল কিছু, একদিন যার পিছু পিছু···

আজ, সেই-ই আমার পিছনে আসে,

আমি তাকে কবিতা ছঁুড়ে মারি



আজ অবশ্য বুঝতে পারছি, আরও একদল বাল্মীকি আসছে!

ওরা কি সন্ধ্যায়, শাহবাগে বসবে?

তর্কে তর্কে, প্রীতিমুগ্ধ অগ্নিসম্মেলন হবে। একদল

কাঁটাবনে, নীলক্ষেতে গিয়ে আর প্রতর্কে ফিরবে না

একদল চলে যাবে ভুবন ইশকুলের বিশাল বিশাল ছাত্রাবাসে

একদল ভাড়াবাড়ি, একদল কবিতায়···

একদল রোদে রোদে, ঘুরছে বৃথায়

একজন একজন করে বাল্মীকির মুখ মনে আসে।

যারা হয়তো শাহবাগে ফিরবে না সেদিনের মতো



সেই লুপ্ত সন্ধ্যার কণা কণা মাধুরীতে গুপ্ত সুষমায়-

আমার মনে পড়েছিল,

ইভাবতি নদী দেখে একদিন, এক সন্ধ্যায়

আমার আত্মার অন্তত এক-চতুর্থ অংশ আমি

রেখে এসেছি সে নদীর জলে!

শীতে, সর্ষেফুলের মতো জ্বলে ওঠা ইভাবতি, তোমাদের মনে পড়ে?



অন্তত তেরটি কবিতা, লেখা আছে একদিন

নদীজলে তারা খুব ভেসে যেতে চায়

তেত্রিশ কোটি ঢেউয়ে



তাই-ই তো, বাল্মীকিরা এসে, যেতে চায়

তাই-ই তো, বাল্মীকিরা ভেসে যেতে চায়

খাদ্যখাবার-টোকন ঠাকুর




দিঘিতে হাঁস শামুকদানা খোঁজে

শরীর ভাসে… নাখমুখঠোঁট জলে

দিঘিতে হাঁস ঝিনুকদানা খোঁজে…



মৃগয়াকে ব্যাঘ্র… বনস্থলে

প্রয়োজনীয় খাদ্য মনে করে



তোমার বুকে কী খুঁজেছি কাল

শামুক? ঝিনুক? মাতৃশিশুকাল?

তোমার বুকে কী পেয়েছি কাল–

পুরো শৈশব, হুলো বাল্যকাল?



মৃগয়াকে ব্যাঘ্র… বনস্থলে

নিজের জন্য খাদ্য কনফার্ম করে



কাল কি ছিল অতিরিক্তকাল?

তোমার বুকের তিলটি ছিল তাল… !

এমন কি তিল কৃষ্ণ নহে, লাল?

কালকে আকাশপাতাল ছিল কাল… !



কালকে আমি বনস্থলে ছিলাম

প্রমাণ ছিল, ব্যাঘ্র আমার নাম

তোমার বুকের মাংশ ছিল, কাঁচা

তাই খেয়েই তো আজ পর্যন্ত বাঁচা–

কাল পর্যন্ত বাঁচতে যদি চাই

ব্যাঘ্র আমি, কাঁচামাংশই চাই



বকের চোখে পুঁটির ছবি আঁকা

পুঁটির চোখেও কেঁচো আঁকা ছিল

তোমাকে খেয়ে আমার বেঁচে থাকা

না খেয়ে কারও বেঁচে থাকা ছিল?